অতিরিক্ত অনলাইন নির্ভরতা আমাদের জীবনের নানা দিককে প্রভাবিত করছে, বিশেষত মানসিক ও সামাজিক দক্ষতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত অনলাইনে সময় কাটানোর ফলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছে:
১. ডোপামিন আসক্তি: ব্রেইনের ডোপামিন সার্কিট অতিরিক্ত উদ্দীপনায় অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে আমরা ক্রমাগত আরও বেশি ডোপামিন রিলিজকারী কাজ খুঁজে বেড়াই। এর ফলে, গভীর মনোযোগ ও ধৈর্য প্রয়োজন এমন কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়ছি।
২. বাস্তব কাজের প্রতি অনাগ্রহ: ডোপামিনের উচ্চতর সুখের অভ্যাসের কারণে অফলাইনের কার্যক্রম যেমন ব্যায়াম, সম্পর্ক তৈরি বা সুস্থ জীবনযাপনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। ফলে আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য অবনতি ঘটছে।
৩. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: অনলাইনে বেশি সময় কাটানোর ফলে যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ার দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস কমে গেছে। আমরা মানুষদের সাথে বাস্তবিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি।
৪. স্বাস্থ্যগত সমস্যা: রাত জাগা, অনিয়মিত খাবার, ব্যায়ামের অভাব ইত্যাদি আমাদের শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
তরুণদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা:
অনলাইনের বাইরে এই সমস্যাগুলোর পেছনে আরও কিছু অভ্যন্তরীণ কারণ রয়েছে, যেমন:
- সেলিব্রেটিজম ও ভাইরাল হবার আকাঙ্ক্ষা: ইখলাসের অভাব এবং সবার লেখক, আলিম, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা ভাইরাল সেলিব্রেটি হওয়ার ফিতনা আমাদের কাজের উদ্দেশ্যকে ভুল পথে পরিচালিত করছে।
- আকীদার গভীরতা না থাকা: আকীদার সঠিক জ্ঞান না থাকায় কাজের মধ্যে স্থিরতা এবং উদ্দেশ্যের পবিত্রতা আসছে না।
- ইখলাসের অভাব: কাজের পেছনের উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি নয়, বরং প্রশংসা বা জনপ্রিয়তা অর্জন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তো কারণ নিয়ে অনেক আলোচনা করা হলো। এবার আসবে সমাধান। কিভাবে সামাজিক শক্তি অর্জনের কর্মসূচীগুলো তরুণদের এই সমস্যাগুলো দূর করতে পারে।
পূর্ববর্তী পর্বগুলো পড়ুন: