ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে গ্রামের ইমাম-খতিবদের যেভাবে এপ্রোচ করবেন

শহর এরিয়ার মসজিদগুলোর ইমাম-খতিবদের সহজে কনভিন্স করা গেলেও গ্রামাঞ্চলে এটা তুলনামূলক কষ্টসাধ্য কাজ।
সেক্ষেত্রে আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বিষয় মনে করিয়ে দিতে চাই।
১. সহজ ভাষায় আলোচনা করুন:
ট্রান্স, ইন্টারসেক্স, এলজিবিটি, হোমোসেক্সুয়াল ইত্যাদি আধুনিক টার্মের সাথে তারা অধিকাংশই পরিচিত নন। তাই তাদেরকে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে বিষয়গুলো। যাতে তারা তাদের মতো করে বিষয়টার গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
আপনি তাদেরকে কওমে লূতের কথা বলতে পারেন, লিঙ্গ পরিবর্তন করার কথা বলতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং জানাশোনা থেকে বলতেছি, অনেক ইমাম সাহেব কওমে লূতের কাহিনী সম্পর্কেও অজ্ঞ থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার কাছে যদি সময় থাকে, তবে উনার কাছে কওমে লূতের ঘটনাটা জানাবেন। লিঙ্গ পরিবর্তনের ইসলামের রুলিং জানাতে পারেন।
ইমাম/খতিব সাহেবের সাথে এমনভাবে কথা বলবেন না যেন উনারা অজ্ঞ। এটা বেশ অশোভন আচরণ। আমাদের অনেকেই এটা নিয়ে জেনেছে হয়তো বেশিদিন হয় নি। আপনি উনার কাছে ছোট হয়ে কথা বলবেন। আর এমনভাবে বিষয়গুলো তুলে ধরবেন, যেন উনি আসলে শরিয়াহর আলোকে ধরে নিতে পারেন এর ভ্রান্তি। জাস্ট নিউজটা আপনি পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন।
২. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরুন:
এরপর বলবেন, বাংলাদেশে কীভাবে স্কুল-কলেজের বইয়ে এইগুলো ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। কীভাবে বিভিন্ন NGO এগুলোর প্রোমোশনে নেমেছে। শেষে ৬ পৃষ্ঠার লিখাটা হুজুরকে দিবেন।

৩. শরিয়াহর মূল পয়েন্টগুলো ক্লিয়ার রাখুন:

হুজুরের কাছে শরিয়াহর আলোকে মেইন সমস্যা কোনটা, সেটা ক্লিয়ার রাখবেন –

  • কওমে লূতের ঘটনা।
  • আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি।
  • হিজড়া এবং ট্রান্সজেন্ডারের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে বলুন।
৪. সামাজিক সমস্যা তুলে ধরুন:
তার কাছে কিছু সামাজিক সমস্যার কথা উপস্থাপন করবেন সবার আগে –
  • নারী যদি পুরুষের ভান ধরে, তাহলে সে পুরুষের সমান সম্পত্তি দাবি করে বসবে।
  • পুরুষ যদি নারীর ভান ধরে, তবে একটা সময়ে নারীদের সঙ্গ পেয়ে সুযোগ বুঝে ধর্ষণসহ যেকোনো অপকর্ম করতে পারবে। তাছাড়া যেসব আইনে নারীদের ছাড় দেয়া আছে, সেগুলোর মাধ্যমে তারা ছাড় পেয়ে যাবে। নারীদের কাজগুলোতে সে পুরুষের শরীর নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে প্রতিবার সেই পুরুষটাই প্রথম হবে। যেমনটা কানাডার ট্রান্স ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে হয়েছে।
  • বিবাহের সকল নিয়ম-কানুন বাতিল হয়ে যাবে
এগুলো খুবই মেজর পয়েন্ট। গ্রামে যে গ্যাঞ্জাম হয় তার মেজরিটি হয় জমি জমা নিয়ে। এগুলা অবশ্যই বলতে হবে। বরং এনামুল হোসাইন ভাইয়ের মাশোয়ারা হলো কওমে লূত এর আগে এই এক নম্বর পয়েন্ট বলা। এরপর কওমে লূত নিয়ে আসা।
এই সবকিছুই বলবেন যদি সময় বেশি থাকে। আর সময় কম থাকলে, মিনিমাম মৌলিক কথাগুলো সহজ ভাষায় বলে দিবেন।